SSD Nodes Learn Hosting plans →
নির্দেশিকা Matt Connorদ্বারা Matt Connor

ক্লড প্রো বাংলাদেশে: দাম আর কার্ডের নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে ক্লড প্রো নিতে গেলে আসল প্রশ্ন দাম নয়, পেমেন্ট পাস করবে কি না। ডুয়েল কারেন্সি কার্ড কেন লাগে আর পেমেন্ট ডিক্লাইন হলে ঠিক কী করতে হয়, এখানে তার উত্তর।

বাংলাদেশ থেকে ক্লড প্রো নিলে আসলে কত খরচ হয়

বাংলাদেশ থেকে ক্লড প্রো (Claude Pro) কেনার খরচ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ Anthropic-এর তালিকা দাম, যা ডলারে স্থির এবং সব দেশে এক: মাসে মাসে বিল করালে 20 ডলার। দ্বিতীয় ভাগ আপনার কার্ড ইস্যু করা ব্যাংক ওই ডলারকে যে হারে টাকায় বদলায়, আর তার উপরে যে মার্কআপ বসায়। কার্ড স্টেটমেন্টে আপনি যে টাকার অঙ্ক দেখবেন, সেটি এই দুই ভাগের যোগফল। প্রথম ভাগটি জানা যায়, দ্বিতীয় ভাগটি ব্যাংকভেদে আলাদা।

তবে এই বাজারে যাঁরা দাম খোঁজেন, তাঁদের আসল প্রশ্নটি সাধারণত দাম নয়। আসল প্রশ্ন হলো, টাকার কার্ড দিয়ে পেমেন্টটি আদৌ পাস করবে কি না। তাই সেটির উত্তর আগে দিয়ে রাখি। বাংলাদেশ ক্লডের সাপোর্টেড দেশের তালিকায় আছে, তাই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। কিন্তু চেকআউটে চার্জটি হয় ডলারে, আর যে কার্ড বৈদেশিক মুদ্রায় ই-কমার্সের জন্য চালু করা নেই, সেটি ডিক্লাইন হবে। এই লেখাটি বাংলাদেশ আর টাকার কার্ডধারীর জন্য। পশ্চিমবঙ্গের পাঠক রুপিতে ভারতীয় নিয়মে পেমেন্ট করেন, সেটি সম্পূর্ণ আলাদা হিসাব।

ক্লডের প্ল্যানের তালিকা দাম ডলারে কত

Chartক্লডের প্ল্যান ও মাসিক তালিকা দাম, ডলারে (28 সেপ্টেম্বর 2026)
The data behind this chart
[
  {
    "plan": "Free",
    "monthly_usd": 0
  },
  {
    "plan": "Pro",
    "monthly_usd": 20
  },
  {
    "plan": "Max 5x",
    "monthly_usd": 100
  },
  {
    "plan": "Max 20x",
    "monthly_usd": 200
  },
  {
    "plan": "Team standard seat",
    "monthly_usd": 25
  },
  {
    "plan": "Team premium seat",
    "monthly_usd": 125
  }
]

উপরের অঙ্কগুলো claude.com/pricing পেজে 28 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে যেভাবে দেখানো ছিল, সেভাবেই তোলা। ফ্রি প্ল্যানে খরচ 0 ডলার। Pro-র মাসিক দাম 20 ডলার। Max-এর দুটি ধাপ, 100 ডলার আর 200 ডলার, যেখানে বেশি দামের ধাপে ব্যবহারের পরিমাণ বেশি। দলের জন্য Team-এর স্ট্যান্ডার্ড সিট মাসিক বিলে সিটপ্রতি 25 ডলার, আর প্রিমিয়াম সিট 125 ডলার।

ব্যক্তিগত ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রায় সব পাঠক Pro-তেই থামেন, কারণ Max-এর খরচ টাকায় রূপান্তর করলে অনেকের কার্ডের বৈদেশিক মুদ্রার সীমাই পেরিয়ে যায়। কোন প্ল্যান আসলে আপনার দরকার তা প্ল্যান বাছাইয়ের তুলনায় আলাদা করে ধরা আছে, আর Pro-তে ব্যবহারের সীমা কেমন তা ক্লড প্রোর দাম ও ব্যবহারের সীমা দেখে নিতে পারেন।

মাসিক নাকি বার্ষিক বিলে নেবেন

ChartClaude Pro: মাসিক বনাম বার্ষিক বিলিং, ডলারে
The data behind this chart
[
  {
    "label": "Monthly",
    "usd_per_month": 20,
    "first_charge_usd": 20
  },
  {
    "label": "Annual",
    "usd_per_month": 17,
    "first_charge_usd": 200
  }
]

বার্ষিক বিলে মাসপ্রতি দাম নেমে আসে 17 ডলারে, কিন্তু কার্ড থেকে একবারেই কাটে 200 ডলার। বাংলাদেশি কার্ডধারীর জন্য এই পার্থক্যটি শুধু ছাড়ের হিসাব নয়। আপনার কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রার যে সীমা এনডোর্স করা আছে, একবারের এত বড় চার্জ সেই সীমার বড় অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। ফল হলো, সীমা কম থাকলে বার্ষিক বিল ডিক্লাইন হয়, অথচ একই কার্ডে মাসিক বিল পাস করত। ছাড় আর নগদ প্রবাহের হিসাব একসঙ্গে মেলাতে বার্ষিক ও মাসিক বিলিংয়ের তুলনা কাজে লাগবে।

20 ডলার এখন কত টাকা

ChartUSD/BDT প্রকাশিত মিড-মার্কেট হার, সেপ্টেম্বর 2026
The data behind this chart
[
  {
    "date": "2026-09-08",
    "usd_bdt": 123.03
  },
  {
    "date": "2026-09-21",
    "usd_bdt": 122.7
  },
  {
    "date": "2026-09-24",
    "usd_bdt": 123.28
  }
]

উপরের সারিগুলো সেপ্টেম্বর 2026-এ প্রকাশিত মিড-মার্কেট হার, অর্থাৎ মুদ্রাবাজারের রেফারেন্স হার। 24 সেপ্টেম্বর 2026-এ সেটি ছিল 123.28 টাকা প্রতি ডলার, আর তার তিন দিন আগে 122.7 টাকা। ওই 24 সেপ্টেম্বরের হারে Pro-র মাসিক 20 ডলার দাঁড়ায় প্রায় 2,466 টাকা।

এই 2,466 টাকা কোনো দাম নয়, একটি হিসাব। দাম হলো 20 ডলার। টাকার অঙ্কটি অন্তত দুটি কারণে বদলায়। এক, হার প্রতিদিন নড়ে; উপরের তিনটি সারিতেই 16 দিনে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। দুই, আপনার ব্যাংক মিড-মার্কেট হারে রূপান্তর করে না, তার নিজের কার্ড রেট ব্যবহার করে, যা সবসময় একটু চড়া। তাই কোথাও ক্লড প্রোর একটি নির্দিষ্ট টাকার দাম লেখা দেখলে সেটিকে আনুমানিক ধরুন, দাম হিসেবে নয়। বাজেট করার সময় ডলারের অঙ্ক ধরে এগোন, তারপর কিছুটা জায়গা রেখে দিন।

চেকআউটে কোন কার্ড চলে

ওয়েব থেকে কেনা সাবস্ক্রিপশনে Anthropic শুধু ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নেয়। PayPal, ব্যাংক ট্রান্সফার বা তৃতীয় পক্ষের কোনো পেমেন্ট প্রসেসর সেখানে নেই। তাই বাংলাদেশ থেকে পেমেন্ট মানে একটিই জিনিস: আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের একটি কার্ড, যেটিতে ডলার খরচের অনুমতি দেওয়া আছে।

কার্ডটির যা যা থাকা লাগে:

  • কার্ডটি Visa বা Mastercard-এর মতো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের হতে হবে। শুধু দেশের ভিতরে চলা কার্ড চেকআউট পর্যন্ত পৌঁছায়ই না।
  • কার্ডটি ডুয়েল কারেন্সি হতে হবে, অর্থাৎ টাকার পাশাপাশি ডলারেও খরচ করা যায় এমন কার্ড।
  • ব্যাংককে কার্ডে ডলার এনডোর্স করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বা ই-কমার্স লেনদেন চালু রাখতে হবে। বেশ কিছু ব্যাংকে এটি অ্যাপ থেকেই চালু করা যায়।
  • এনডোর্স করা ডলারের একটি সীমা থাকে, যা ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করে। আপনার কার্ডে আজ কত বাকি আছে সেটি ব্যাংক থেকে জেনে নিন। এখানে কোনো সংখ্যা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, কারণ ব্যাংক ও কার্ডভেদে এটি আলাদা।

এরপর আসে রিকারিং চার্জের প্রশ্ন, যেটি অনেকে খেয়াল করেন না। সাবস্ক্রিপশন প্রতি মাসে নিজে থেকেই আবার চার্জ হয়। কিছু ব্যাংক এককালীন আন্তর্জাতিক লেনদেন অনুমোদন করে, কিন্তু স্বয়ংক্রিয় রিকারিং চার্জ আটকে দেয়। এর লক্ষণ পরিষ্কার এবং আপনি নিজেই মিলিয়ে দেখতে পারবেন: প্রথম মাসে সব ঠিক চলল, পরের মাসে "Your receipt from Anthropic" সাবজেক্টের ইমেইলটি এলো না, অ্যাকাউন্ট ফ্রি প্ল্যানে নেমে গেল, আর Settings > Billing পেজে পেমেন্ট ব্যর্থ দেখাচ্ছে।

আরেকটি সাধারণ কারণ হলো OTP। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেনে 3-D Secure যাচাই চালায় এবং আপনার মোবাইলে একটি কোড পাঠায়। ব্যাংকের খাতায় থাকা নম্বরটি পুরোনো হলে কোডটি আসে না, আর কোড ছাড়া লেনদেন অনুমোদিত হয় না। চেকআউট পেজে তখন শুধু ডিক্লাইন দেখায়, কারণটি লেখা থাকে না। সেজন্যই নম্বর হালনাগাদ আছে কি না আগে দেখে নেওয়া ভালো।

বিকাশ, নগদ আর লোকাল কার্ড কেন চেকআউটে নেই

বিকাশ, নগদ বা রকেট হলো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS), যেগুলো দেশের ভিতরে টাকায় লেনদেন নিষ্পত্তি করে। Anthropic-এর ওয়েব চেকআউটে এগুলো কোনো অপশন নয়, কারণ সেখানে শুধু কার্ড গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশকে আলাদা করে বাদ দেওয়ার ব্যাপার নয়; ওয়ালেট আর ব্যাংক ট্রান্সফার কোনো দেশেই নেওয়া হয় না।

একই কারণে "domestic use only" লেখা ডেবিট কার্ড বা শুধু স্থানীয় নেটওয়ার্কে চলা কার্ড ডিক্লাইন হয়। কার্ডটি খারাপ নয়, কার্ডটি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের জন্য চালু নয়, তাই ইস্যুকারী ব্যাংক অনুরোধটি ফিরিয়ে দেয়।

একটি বাস্তব বিকল্প আছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাপ থেকেই ভার্চুয়াল ডুয়েল কারেন্সি কার্ড খুলতে দেয় এবং সেটিতে ডলার এনডোর্স করা যায়। নেটওয়ার্কের কাছে সেটি একটি সাধারণ কার্ডই, তাই চেকআউটে এটি প্লাস্টিক কার্ডের মতোই আচরণ করে। কার্ডের ধরন আর বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কীভাবে জমা হয় তার সাধারণ ব্যাখ্যা ক্লডের পেমেন্ট পদ্ধতি ও এফএক্স খরচ দেখে নিলে ছবিটা পরিষ্কার হবে।

ব্যাংকের মার্কআপ কোথায় বসে, আর নিজে কীভাবে মাপবেন

কেউ আপনাকে একটি শতাংশ বলে দিলে সেটি ধরে নেবেন না। ব্যাংক ও কার্ডভেদে সংখ্যাটি আলাদা, আর কিছু ব্যাংক এটি আলাদা ফি হিসেবে দেখায়, কিছু ব্যাংক রূপান্তর হারের ভিতরেই মিশিয়ে দেয়। নিজের অঙ্কটি বের করা কঠিন নয়।

  1. Settings > Billing থেকে ইনভয়েস খুলুন, অথবা "Your receipt from Anthropic" সাবজেক্টের ইমেইলটি দেখুন। সেখানে অঙ্কটি ডলারে থাকবে।
  2. কার্ড স্টেটমেন্টে ঠিক ওই লেনদেনটির টাকার অঙ্ক বের করুন।
  3. টাকার অঙ্ককে ডলারের অঙ্ক দিয়ে ভাগ করুন। যা পাবেন সেটিই আপনার কার্যকর হার।
  4. চার্জের তারিখের প্রকাশিত মিড-মার্কেট হারের সঙ্গে তুলনা করুন। পার্থক্যটিই নেটওয়ার্ক আর ব্যাংকের মার্কআপ।

স্টেটমেন্টে "international transaction fee" জাতীয় আলাদা লাইন আছে কি না সেটিও দেখুন, কারণ থাকলে সেটি রূপান্তরের বাইরে বাড়তি খরচ। দুই জায়গাতেই না তাকালে আপনি আসল খরচ কম ধরে ফেলবেন।

ভ্যাট আর ফি: ধরে নেওয়ার বিষয় নয়, দেখে নেওয়ার বিষয়

ইনভয়েসে করের লাইন থাকবে কি না তা নির্ভর করে আপনার বিলিং ঠিকানার উপর, আর অ্যাকাউন্টে কোনো ট্যাক্স বা ভ্যাট আইডি যোগ করা আছে কি না তার উপর। তাই এখানে কোনো শতাংশ লেখা হচ্ছে না। বরং কোথায় তাকাতে হবে সেটি লেখা হচ্ছে।

  • Settings > Billing-এ বিলিং ঠিকানায় কোন দেশ বসানো আছে দেখুন।
  • একই পেজ থেকে ইনভয়েস খুলে কর বা VAT নামের আলাদা লাইন আছে কি না দেখুন।
  • কার্ড স্টেটমেন্টে ব্যাংকের নিজস্ব ফি আলাদা লাইনে বসেছে কি না দেখুন।
  • ঠিকানাটি শুরুতেই ঠিক করে দিন, কারণ ইনভয়েস একবার চূড়ান্ত হয়ে গেলে সেটি আর সম্পাদনা করা যায় না।

পেমেন্ট ডিক্লাইন হলে কী করবেন

Anthropic-এর দিকটা সহজ। পেমেন্ট ব্যর্থ হলে অ্যাকাউন্ট পেইড থেকে ফ্রি প্ল্যানে নেমে আসে, আপনার কথোপকথন মুছে যায় না, আর Settings > Billing-এ স্ট্যাটাস দেখা যায়। কার্ড আপডেট করে আবার চেষ্টা করলে অ্যাক্সেস ফিরে আসে।

ব্যাংকের দিকে যা যা জিজ্ঞেস করবেন:

  1. কার্ডে আন্তর্জাতিক বা ই-কমার্স লেনদেন চালু আছে কি না।
  2. কার্ডে ডলার এনডোর্স করা আছে কি না, আর সীমায় এখন কত বাকি।
  3. ব্যাংকের খাতায় থাকা মোবাইল নম্বরটি হালনাগাদ কি না, কারণ যাচাইয়ের কোড ওই নম্বরেই যায়।
  4. স্বয়ংক্রিয় রিকারিং আন্তর্জাতিক লেনদেন অনুমোদিত কি না। এটি আলাদা করে জিজ্ঞেস করুন, কারণ এককালীন অনুমোদন আর রিকারিং অনুমোদন একই সেটিং না-ও হতে পারে।

কার্ড বারবার ফিরিয়ে দিলে ধাপে ধাপে কী দেখতে হয় তা পেমেন্ট ডিক্লাইন হলে করণীয় লেখায় বিস্তারিত আছে।

বাংলাদেশ কি সাপোর্টেড দেশ, আর ফোন ভেরিফিকেশন কীভাবে কাজ করে

28 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে দেখা অবস্থায় Anthropic-এর সাপোর্টেড দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশ আছে। অর্থাৎ ওয়েব, মোবাইল অ্যাপ আর পেইড প্ল্যান বাংলাদেশ থেকে ব্যবহারের অনুমতি আছে। তালিকাটি বদলাতে পারে, তাই সাইন আপের দিন claude.com/supported-countries একবার দেখে নেওয়া ভালো অভ্যাস।

নতুন অ্যাকাউন্টে ফোন ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক এবং এড়ানোর কোনো উপায় নেই। নিয়মগুলো সরাসরি বলি:

  • নম্বরটিকে SMS গ্রহণ করতে হবে। VoIP নম্বর, Google Voice, অ্যাপে তৈরি নম্বর বা ল্যান্ডলাইন গ্রহণ করা হয় না।
  • একটি নম্বর দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করা যায়। নম্বরটি "already in use" দেখালে তার মানে ওই নম্বরে আগেই তিনটি অ্যাকাউন্ট যাচাই হয়ে আছে।
  • একবার যাচাই হয়ে গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত নম্বর আর বদলানো যায় না। তাই যে নম্বরটি আপনি দীর্ঘদিন রাখবেন, সেটিই ব্যবহার করুন।

একটি সচল +880 মোবাইল নম্বর এই শর্তগুলো পূরণ করে। কোন দেশে ক্লড চালু আর কোথায় নয়, তার পুরো ছবি দেশভিত্তিক প্রাপ্যতার তালিকা থেকে দেখে নিতে পারেন।

ভিপিএন দিয়ে সাইন আপ করা সমাধান নয়

বাংলাদেশ সাপোর্টেড, তাই এখান থেকে ভিপিএন ব্যবহারের কোনো দরকারই নেই। উল্টো ক্ষতি হতে পারে, কারণ ব্যাংকের কার্ড যাচাই আর লগইনের নিরাপত্তা পরীক্ষা তখন হঠাৎ বদলে যাওয়া অবস্থান দেখে, আর তাতে লেনদেন আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

যেসব দেশ সাপোর্টেড নয়, সেখানেও ভিপিএন কাজের জিনিস নয়। কারণটি যান্ত্রিক: সাইন আপে একটি সাপোর্টেড দেশের ফোন নম্বর লাগে, আর পেমেন্টে কার্ডের বিলিং দেশ যাচাই হয়। ভিপিএন শুধু আইপি ঠিকানা বদলায়, ওই দুটির একটিও বদলায় না। তার উপর অবস্থান আড়াল করে ব্যবহার Anthropic-এর ব্যবহারনীতির পরিপন্থী, ফলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। টাকা দিয়ে কেনা সাবস্ক্রিপশনের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকির দাম বেশি।

অ্যাপ স্টোর দিয়ে কিনলে কী বদলায়

iOS বা Android অ্যাপ থেকে Pro কিনলে বিল করে Apple App Store বা Google Play, Anthropic নয়। তখন কার্ড, রসিদ আর বাতিল করা সবই স্টোরের অ্যাকাউন্ট থেকে সামলাতে হয়, Settings > Billing থেকে নয়। স্টোরের নিজস্ব মুদ্রা ও কর হিসাব আলাদা, তাই ওয়েবের ইনভয়েসের সঙ্গে অঙ্ক হুবহু মিলবে না ধরে নিন। দুই পথ মিলিয়ে ফেললে পরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, সেটির ব্যাখ্যা অ্যাপ স্টোর সাবস্ক্রিপশন ও ওয়েব সাইন আপের জটিলতা লেখায় আছে।

এই লেখাটি দাম আর পেমেন্ট নিয়ে। ক্লড বাংলা ভাষায় কেমন কাজ করে, সেটি আলাদা প্রশ্ন এবং আলাদা লেখার বিষয়, তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তি করা হয়নি। কার্ড ঠিক করার আগে বিনা খরচে ক্লড যাচাই করে নিতে চাইলে ফ্রি প্ল্যানে কতটুকু ব্যবহার পাওয়া যায় দেখে নিন, তাতে 20 ডলার খরচের আগেই বোঝা যাবে কাজটি আপনার হাতে আসছে কি না।

FAQ: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশি ডেবিট কার্ড দিয়ে কি ক্লড প্রো কেনা যায়?

যায়, তবে শর্ত আছে। কার্ডটি Visa বা Mastercard-এর মতো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের হতে হবে, ডুয়েল কারেন্সি হতে হবে, ব্যাংককে কার্ডে ডলার এনডোর্স করে দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ই-কমার্স লেনদেন চালু থাকতে হবে। শুধু দেশের ভিতরে চলা ডেবিট কার্ড ডিক্লাইন হবে, কারণ সেটি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের জন্য চালুই নয়। ব্যাংককে আলাদা করে জিজ্ঞেস করুন স্বয়ংক্রিয় রিকারিং চার্জ অনুমোদিত কি না, কারণ প্রথম মাসের চার্জ পাস করেও পরের মাসের রিনিউয়াল ফেল করতে পারে।

বিকাশ বা নগদ দিয়ে কি ক্লড প্রোর বিল দেওয়া যায়?

না। ওয়েব থেকে কেনা সাবস্ক্রিপশনে Anthropic শুধু ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নেয়, কোনো ওয়ালেট বা ব্যাংক ট্রান্সফার নেয় না। বিকাশ, নগদ বা রকেট মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, যেগুলো দেশের ভিতরে টাকায় নিষ্পত্তি হয়, তাই চেকআউটে এগুলো অপশন হিসেবেই আসে না। বিকল্প হলো ব্যাংক থেকে একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেওয়া, প্লাস্টিক বা ভার্চুয়াল, যেটিতে ডলার এনডোর্স করা আছে।

ক্লড প্রোর 20 ডলারে কত টাকা কাটবে?

নির্দিষ্ট কোনো টাকার অঙ্ক নেই, কারণ দামটি ডলারে স্থির আর রূপান্তরের হার প্রতিদিন বদলায়। 24 সেপ্টেম্বর 2026-এ প্রকাশিত মিড-মার্কেট হার ছিল 123.28 টাকা প্রতি ডলার, ওই হারে 20 ডলার প্রায় 2,466 টাকা। বাস্তবে আপনার ব্যাংক নিজের কার্ড রেট ব্যবহার করে এবং তার উপরে মার্কআপ বসায়, তাই স্টেটমেন্টের অঙ্ক এর চেয়ে বেশি হবে। নিজের প্রকৃত হার বের করতে স্টেটমেন্টের টাকার অঙ্ককে ইনভয়েসের ডলারের অঙ্ক দিয়ে ভাগ করুন।

বাংলাদেশে ক্লড ব্যবহারের জন্য কি ভিপিএন লাগে?

লাগে না। 28 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে দেখা অবস্থায় বাংলাদেশ সাপোর্টেড দেশের তালিকায় আছে, তাই সাইন আপ আর পেইড প্ল্যান দুটোই সরাসরি কাজ করে। ভিপিএন কোনো সমাধানও নয়, কারণ সাইন আপে সাপোর্টেড দেশের একটি SMS গ্রহণ করতে পারা ফোন নম্বর লাগে এবং পেমেন্টে কার্ডের বিলিং দেশ যাচাই হয়; ভিপিএন এর কোনোটিই বদলাতে পারে না। অবস্থান আড়াল করে ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।